Responsive image
Print Friendly, PDF & Email

কুমিল্লা বোর্ডের পরীক্ষার্থীরা ডুবেছে ইংরেজী ও গণিতে

Published : জুলাই ২৪, ২০১৭ at ৮:৪১ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

1500822028

গত বছরের ভালো ফলাফলের পর আবারও আশার মুখ দেখছিল কুমিল্লা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা। এক বছর না যেতেই আবারও চোখের জলে ভাসল কুমিল্লার শিক্ষাঙ্গন। অংশগ্রহণকৃত শিক্ষার্থীদের মাঝে অর্ধেকেরও বেশী শিক্ষার্থী নাম লিখিয়েছে অকৃতকার্যতার খাতায়। ফলাফল বিপর্যয়ে গত ৫বছরকেও হার মানিয়েছে কুমিল্লা বোর্ড। দেশের ১০ বোর্ডের মধ্যে সবচাইতে বেশী পিছিয়েছে কুমিল্লা বোর্ড।

এদিকে ২০১২ সাল থেকে ফলাফল পর্যালোচনা করলে গত বছর পর্যন্ত কুমিল্লা বোর্ডের পাশের হার ছিল ৬০ শতাংশের উপরে। কিন্তু এবছর কুমিল্লাবাসীকে হতবাক করে পাশের হার দাড়িয়েছে ৪৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। শুধু পাশের হারই কমেনি, গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে জিপিএ-৫ এর হার। এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৬৭৮জন শিক্ষার্থী।  যেখানে ২০১২ সালে কুমিল্লা শিাবোর্ডে পাশের হার ছিলো ৭৪ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২হাজার ১৫০জন। ২০১৩ সালে ফলাফল বিপর্যয় হয়ে পাশের হার কমে হয় ৬১ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২হাজার ৩৯০জন। পুনরায় ২০১৪ সালে পাশের হার বেড়ে ৭০দশমিক ১৪শতাংশ হয় এবং জিপিএ-৫ পায় ২হাজার ৬শ জন শিার্থী, ২০১৫ সালে পাশের হার ৫৯.৮০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৪৫২ জন এবং ২০১৬ সালে পাশের হার ৬৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৯১২জন।

কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কায়সার আহমেদ বলেন, ইংরেজি ও গণিতের ফলাফল ডুবিয়েছে কুমিল্লা বোর্ডের শিক্ষার্থীদের। গত বছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে ইংরেজীতে পাশের হার ছিল ৮৩.৫৪শতাংশ তা এবছর কমে দাড়িয়েছে ৬২.০৬শতাংশে। ইংরেজীতে ফেল করেছে ৩৭.৯৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। এর সার্বিক প্রভাব সকল বিভাগের পাশের হারে পড়েছে। এছাড়া গণিতে ২০১৬ সাশে পাশের হার ছিল ৪৮.৪২শতাংশ তা এবছর আরও কমে দাড়িয়েছে ৩৪.৩৩শতাংশ। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে এবছর অবজেকটিভ প্রশ্নে ১০ শতাংশ নম্বর কম দেয়াও পাশের হার কমার একটি কারণ হতে পারে।
ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্য প্রফেসর মো.আবু তাহের জানান, আমি এটাকে ফলাফল বিপর্যয় বলবো না। বলবো পাশের হার কমেছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে ইংরেজি ও গণিত ভীতি রয়েছে। এছাড়াও অধিকাংশ কলেজে ইংরেজি বিষয়ে দ ও প্রশিণ প্রাপ্ত শিকের অভাবে এ বছর ইংরেজিতে অধিক পরীার্থী ফেল করেছে। বিশেষ করে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় গ্রামাঞ্চলে যেসকল কলেজ রয়েছে সেগুলোতে দক্ষ শিক্ষকের অভাব প্রকট। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে দক্ষতা বাড়াতে যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের কাসমুখী করতে হবে। তারা যাতে যথাযথভাবে শ্রেণীতে উপস্থিত থাকে এবং পাঠে মনোযোগী হয় সেজন্য কলেজ কর্তৃপক্ষসহ শিক্ষকদের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কাসমুখী না হওয়াটাও পাশের হার কমার একটা কারণ। শিক্ষার্থীরা যদি ভালভাবে কাসে মনোযোগী হয় এবং নিয়মমত পড়াশোনা করে তাহলে আমি আশা করছি একসময় এই পাশের হার কমার প্রবণতা কমে যাবে এবং ক্রমান্বয়ে শিক্ষার্থীরা ভাল ফলাফল করবে।
কুমিল্লা সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: রুহুল আমিন ভূইয়া বলেন, এবছর নতুন কারিকুলামে ইংরেজী প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্র হওয়ার কারণে ইংরেজীতে ফেলের হার অনেক বেশী। অল্প সময়ে শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস আয়ত্ত করতে পারেনি আর সেই সাথে শিক্ষকরা সার্বিকভাবে পাঠদান করতে পারেনি শিক্ষার্থীদের। এছাড়া খাতা মূল্যায়নে কড়াকড়ি প্রদর্শনও ফলাফল বিপর্যয়ের একটি কারণ। মডেল পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের জন্য এইচএসসি পরীায় পাসের হার কমেছে। সৃজনশীল পদ্ধতির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দ্বারা খাতা মূল্যায়নের ফলে তারা সঠিকভাবে বিবেচনা করেছে।
ইবনে তাইমিয়া স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: শফিকুল আলম হেলাল বলেন, বর্তমানে শিক্ষার্থীরা ফেসবুক, টুইটারে আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে বেশী। ফলে শ্রেণীকক্ষে তাদের মনোযোগ কম। এছাড়া আগে আমরা ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভালো মানের শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাতে পারতাম। এখন বোর্ডে লটারীর মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্ধারণ করে দেয়া হয়। ফলে ভালো-খারাপ শিক্ষার্থী একসাথে হয়ে যায়। খারাপদের জন্য ভালো শিক্ষাথীদের মনোযোগ বিঘœ হয়। আর এর প্রভাব পড়ে মূল ফলাফলে। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিকের সময় ২ বছরের তুলনায় সিলেবাস অনেক বেশী। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে এতবড় সিলেবাস শিক্ষার্থীরা আয়ত্ত করতে পারে না। এটাও ফল খারাপের একটা কারণ বলে আমি মনে করি।
কুমিল্লা সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দা বিলকিছ আরা বেগম বলেন, সৃজনশীল পদ্ধতি এখনও শিক্ষার্থীরা রপ্ত করে উঠতে পারেনি। এছাড়া মডেল পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের কারণেও পাশের হার কমেছে। এছাড়া শিক্ষার্থীরা এখন আর কাসমুখী নয়। উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তির আগে থেকেই তারা কোচিংমুখী হয়ে পড়ে। ফলে কলেজে ভর্তির পরও তারা কাসে আসতে চায়না। সঠিকভাবে তারা যদি কাসে উপস্থিত থাকতো এবং বইগুলো ভালো করে অধ্যয়ন করে তাহলে খারাপ ফলাফল ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আমি মনে করি।
এবছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এবছর ১ লাখ ৩৭২ জন পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে পাশ করেছে ৪৯ হাজার ৭০৪ জন। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৭৯২ জন ছেলে এবং ২৫ হাজার ৯১২ জন মেয়ে পাশ করেছে। এবছর পাশের হার ৪৯ দশমিক ৫২শতাংশ। যা গত বছরের তুলনায় ১৪দশমিক ৯৭শতাংশ কম। গতবছরের তুলনায় এছর জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। এবছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৮জন। শতভাগ পাশ করেছে ৭ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এবছরের ফলাফলে একজনও পাশ করেনি এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা রয়েছে ৩টি। পাশের হারের দিক থেকে এগিয়েছে ছেলেরা আর জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়েছে মেয়েরা। ছেলেদের পাশের হার ৪৯.৫৬ শতাংশ এবং মেয়েদের পাশের হার ৪৯.৪৮ শতাংশ। এবছর মেয়েরা জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৫৩ জন এবং ছেলেরা জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৫ জন। এবছর বিজ্ঞান শাখায় পাশের হার বেড়েছে। গতবছর বিজ্ঞান শাখায় পাশের হার ছিল ৭২.১৬ শতাংশ তা এ বছর বেড়ে দাড়িয়েছে ৭২.৭২ শতাংশ। গতবছরের তুলনায় মানবিক শাখায় অর্ধেকেরও বেশী শিক্ষার্থী ফেল করেছে। গত বছর মানবিক শাখায় পাশের হার ছিল ৬৬.৬৩ শতাংশ তা এবছর কমে দাড়িয়েছে ৩৮.৩৮ শতাংশ। কমেছে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের পাশের হার। গত বছর ব্যবসায় শাখায় পাশের হার ছিল ৮০.৪৬ শতাংশ তা এবছর কমে দাড়িয়েছে ৪৯.৬৩ শতাংশ।
এদিকে শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, নতুন পদ্ধতিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে বলেই এবারে পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমেছে। মডেল পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়নের জন্য এইচএসসি পরীায় পাসের হার কমেছে। কাউকে নম্বর বাড়িয়ে দেয়া আমাদের কাজ নয়। সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়নের মাধ্যমে পরীার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর দেয়াই আমাদের মূল ল্য। গত পাঁচ বছর নানা প্রচেষ্ঠায় আমরা খাতা মূল্যায়নের নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন করেছি। এ কারণে এসএসসি’র ফলেও পাসের হার কমে গেছে।

বিজ্ঞাপন

Poll

[ poll id=1638]
Comilla (Bangladish)
Today
Cloudy
Wind : 2.8 km/h
Humidity : 82%
27°C
  • Sunday Tomorrow 29 °C
  • Monday   30 °C
Weather Layer by www.BlogoVoyage.fr