Responsive image
Print Friendly, PDF & Email

শীতে কাঁপছে দেশ

Published : জানুয়ারি ১৬, ২০১৭ at ৬:২৭ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

editorialমাঘে এসে শীত জেঁকে বসায় সমাজের অসহায় ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়ে গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা ঠা-াজনিত বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন। সামর্থ্যবান কিংবা সচেতন ব্যক্তিরা আক্রান্ত হলে হাসপাতালে যান বা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। দু:স্থ, সুবিধাবঞ্চিত বহু মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নেয়ার সামর্থ্য যেমন রাখে না, বহু এলাকায় ধারেকাছে হাসপাতাল কিংবা কিনিকও নেই। শীতবস্ত্রের অভাবেও অনেকে কষ্ট করছেন বা রোগে পড়ছেন। মারাও যাচ্ছেন কেউ কেউ। আমাদের উচিত ত্রাণসেবা নিয়ে এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
শীতের সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, সর্দি, কাশি, জ্বর দেখা দিচ্ছে ঘরে ঘরে। এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ঠা-া অনুসারে গরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে, ধুলাবালি এড়িয়ে চলতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া যখন-তখন ওষুধ খাওয়াও ঠিক নয়।
শ্বাসতন্ত্রের কোনো সমস্যা দেখা দিলে অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শে, আবার কেউ কেউ নিজে নিজেই অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার শুরু করেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মত হচ্ছে, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো যোগসূত্র নেই; ভালোভাবে পরীা-নিরীা না করে শ্বাসতন্ত্রের কোনো সমস্যায় ওষুধ ব্যবহার মারাত্মক তি বয়ে আনতে পারে।
ঠা-াজনিত কিছু অসুখ প্রতিরোধযোগ্য হলেও এ ব্যাপারে আমাদের দেশে সচেতনতা ও সুযোগ দুটোই কম। নিউমোনিয়া ও ব্রংকিউলাইটিস ইনফুয়েঞ্জার সংক্রমণ ঠেকাতে পারে এমন টিকা আবিষ্কৃত হলেও খুব কম মানুষই এই স্বাস্থ্যসেবার আওতায় এসেছে। এ জন্য সরকারিভাবে নিউমোনিয়া ও ইনফুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন কর্মসূচি চালু করারও তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
শীতজনিত রোগে আক্রান্ত বহু মানুষ ভিড় করছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল বা প্রাইভেট প্র্যাকটিশনারদের কাছে। স্বাস্থ্যসেবা দানকারীরা যেন আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্বটি পালন করেন। বড়দের চেয়ে এ সময় শিশুরা বেশি ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই অভিভাবকদেরও সাবধান থাকতে হবে। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, শীতার্তদের অনেকেই আছেন দিনের আয়ে যাঁদের চলতে হয়। শীত ও ঘন কুয়াশায় কাজে যেতে পারছেন না বলে নারী ও শিশুদের নিয়ে তাঁরা বিপাকে পড়েছেন। অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে অনেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। কোথাও কোথাও স্থানীয় প্রশাসনসহ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ত্রাণ বিতরণ করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য। শীতবস্ত্রের সঙ্গে বেশি করে শুকনো খাবার ও স্যালাইন নিয়ে দুর্গতদের কাছে ছুটে যেতে হবে। দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হিসেবে প্রত্যন্ত ও পশ্চাৎপদ এলাকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিরও উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বাড়ানো দরকার সচেতনতা। শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। বিত্তবান শ্রেণিসহ সমাজের প্রতিটি সদস্যের এ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসা উচিত।

বিজ্ঞাপন

Poll

[ poll id=1638]
Comilla (Bangladish)
Today
Rainy
Wind : 3.1 km/h
Humidity : 94%
22°C
  • Saturday Tomorrow 22 °C
  • Sunday   22 °C
Weather Layer by www.BlogoVoyage.fr