Responsive image
Print Friendly, PDF & Email

সরকারের তিন বছর ও আগামী

Published : জানুয়ারি ১৪, ২০১৭ at ৬:৪২ অপরাহ্ণ
Print Friendly, PDF & Email

মোস্তফা হোসেইন ।।
মনে হয় এইতো ক’দিন আগে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। অথচ ৩টি বছর কেটে গেছে এর মধ্যে। এই মনে হওয়াটা রাজনৈতিক বিশ্লেষণকারীদের ভাবনায় আসতেই পারে। যদি অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা আর অধিকাংশ অবনতি কিংবা উন্নয়নের চাকা স্থবির হয় তাহলে সময় যেন যেতে চায় না। মনে হতে পারে- কবে যাবে এই আপদ। আর স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তৈরি হলে সময় দ্রুত চলে যায় বলে মনে হয়। শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্ব সেই ইতিবাচক ভাবনার জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছে। সুতরাং কিছু ব্যর্থতাকে স্বীকার করেও তিনি সাধারণ মানুষের প্রশংসা পেতেই পারেন।
মেয়াদের ৩ বছর পারি দিয়ে নতুন বছরে পদার্পণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তাঁর সরকারের সাফল্যের বর্ণনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হিসেবে প্রতিপক্ষের সমালোচনাও করেছেন। চলমান ও সমাপ্ত উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলোর চিত্র তোলে ধরেছেন। একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি তা জাতির সামনে উপস্থাপন করবেন এটাই স্বাভাবিক। আবার যারা তাঁর বক্তব্যকে একান্তই অতীত নির্ভর বলে মন্তব্য করেন তাদেরও চিন্তা করতে হবে, মেয়াদের বাকি সময় উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে হলে যে অতীতকে অবশ্যই আলোচনায় আনতে হবে। আর সেই কাজটিই প্রধানমন্ত্রী করেছেন।
সরকারের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বিষয়টি বিশ্বসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বিশ্বব্যাংকের হিসাবও তার কাছাকাছি চলে গেছে। সরকার ৭ এর বেশি হবে বলে আগাম বার্তা দিয়েছিল। বিশ্বব্যাংক হিসাব করে দেখিয়েছেন তা ৬ দশমিক ৮ পর্যন্ত তা হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের মতো একটি দেশে এই অর্জনকে খাটো করে দেখার মতো সুযোগ আছে কি? অবশ্য বেসরকারি বিনিয়োগের প্রশ্নটিতে একটু হোঁচট খেতেই হয়। ব্যাংকে লিকুইড মানি পড়ে আছে, অন্যদিকে কালো টাকা সাদা করার সরকারি সুযোগ থাকার পরও বেসরকারি বিনিয়োগ আশানুরূপ না হওয়াটা অবশ্য ভালো ঠেকে না। দেশের দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধিটা অতি জরুরি।
আইন শৃংখলা পরিস্থিতি একবারেই শান্তিপূর্ণ এমনটা বলার অবকাশ নেই। কিন্তু এটাও মনে করতে হবে ২০১৩-১৪ সালে যেভাবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিশৃংখলাপূর্ণ পরিস্থিতি বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে, এখন আর সেটা নেই। জঙ্গি তৎপরতা নিশ্চিহ্ন হয়নি। কিন্তু আইন শৃংখলারক্ষাকারী বাহিনীর সফল তৎপরতায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে এটাও বোধ করি অস্বীকার করার উপায় নেই। আর বিশ্ব রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে যদি বিবেচনা করা হয়, তাহলে এটা বলতেই হবে-বাংলাদেশ জঙ্গি নিয়ন্ত্রণেও অনেকটা সফল হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকার পেছনে সরকারের সাফল্য যেমন আছে পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের দুর্বলতাও মেনে নিতে হবে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টিতো মূলত সরকারের অংশগ্রহণকারী দল হিসেবেই সাধারণ মানুষ জানে। বিএনপির মতো বড় একটি রাজনৈতিক দল গত নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ে মানুষ হত্যা করে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছে, তাতে সাধারণ মানুষের সমর্থনও আগের মতো নেই দলটির। তারা  কোনো মিটিং সমাবেশ ডাকলে আর তাতে সরকার বাধা দিলে তাদের দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে মাঠে নামানোর নেতৃত্ব নেই তাদের। এই দুর্বলতা আর লেজুরবৃত্তির কারণে সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে বিশৃংখল পরিস্থিতি তৈরি হয়নি দেশে। এর সুফল পেয়েছে মানুষ আর সাফল্যের হিসাবটা গেছে সরকারের ঘরে।
শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য ও ব্যর্থতা দুটোই বড় মাপের। একনাগারে সাফল্যকেই যে সরকার উপহার দিয়েছে এবছর পাঠ্যবইয়ের ভুল ও সাম্প্রদায়িক চিন্তার প্রতিফলন সরকারকে কিছুটা হলেও বিরূপ সমালোচনার মুখে ঠেলে দিয়েছে। যদিও শিক্ষামন্ত্রী নিজেই এই ত্রুটিগুলোর কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত কমিটি নিয়োগ মাধ্যমে নিরসনের উপায় বের করে আনারও পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
বহির্বিশ্বের চাপ থাকার পরও স্বাধীনতা বিরোধী ও মানবাধিকার বিরোধীদের বিচার সম্পন্ন করে সরকার মাইল ফলক তৈরি করেছে নি:সন্দেহে। কিন্তু জঙ্গি সৃষ্টির পথ বন্ধ করতে যে সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও শিক্ষায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন ছিল সেদিকে সরকার কতটা নজর দেবে ভবিষ্যতে সেটাই বিবেচ্য।
যোগাযোগ ব্যবস্থায় সুপরিবর্তন অতি সহজে আমাদের দৃষ্টিতে পড়ে। যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফলভোগকারী মানুষের কাছ থেকে সরকার যতটা বাহবা পাওয়ার কথা তা কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পাচ্ছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থার  যে উন্নতি বর্তমান সরকার করেছে, শুধু এই একটি খাতকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী করতে পারতো সরকার। পদ্মাসেতু প্রকল্প হাতে নিয়ে সরকার শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেই সাক্ষর রাখেনি- এর সূত্র ধরে বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানকেও এক হাত নিতে পেরেছে। অন্তত বিশ্ব দেখতে পেরেছে, বাংলাদেশ নামের ক্ষুদ্র দেশটিও মাজা শক্ত করে দাঁড়াতে পারে। উন্নয়নের গতির  সমান্তরালে যদি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর না দেয়া হয় তাহলে উন্নয়নের সুফল মানুষ ওই হারে পাবে না। দুঃখজনক হলেও সত্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রতি সরকারি দৃষ্টি যেন মন্থরতর হয়ে পড়ছে।
প্রযুক্তির উন্নয়নের সুফল মানুষ দুই হাতে গ্রহণ করেছে। গ্রামকে প্রকৃতির সন্তান বিবেচনা করেই প্রযুক্তির ছোঁয়া সেখানেও পৌঁছে দেয়াটা সহজ নয়। সেদিকেও সাফল্য এসেছে। কিন্তু একইভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধিজনিত কারণে উৎপাদনমুখী ভূমি রক্ষায় নজর নেই বললেও বেশি হবে না। আবাসন চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে যেভাবে ফসলি জমিতে, জলাধার ভরাট করে একের পর এক বাড়ি নির্মাণ করে চলেছে তা একসময় দেশের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সৃষ্টি করবে। এখনো যদি পরিকল্পিত উপায়ে আবাসন ব্যবস্থা না হয় পরবর্তীকালে তা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।
গার্মেন্ট শিল্পের পাশাপাশি ওষুধ শিল্প বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ছড়িয়ে দিচ্ছে। রফতানি উন্নয়ন মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে। এটা স্বীকার করতে হবে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় আরেকটি খাত জনসম্পদ রফতানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার চেষ্টা তেমন চোখে পড়ছে না। টিকসই উন্নয়নকে বাস্তবায়িত করতে হলে জনশক্তি খাতকে আধুনিকায়নের প্রয়োজন অপরিহার্য।
সরকার যদি এদিকটিতে আগামীতে নজর দেয় তাহলে সরকারের ভিশন বাস্তবায়ন অসম্ভব হবে না। উন্নয়নের সিঁড়ি যখন তৈরি হয়েছে তখন খাতওয়ারি পরিকল্পনা মাধ্যমে সরকার ভিশন সফল করতে পারবে এটা আশা করা ভুল হবে না বলে মনে হয়।
লেখক- সাংবাদিক, শিশুসাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক।
মুঠোফোন- ০১৯১৮ ১৮৮ ৯৪৮

বিজ্ঞাপন

Poll

[ poll id=1638]
Comilla (Bangladish)
Today
Cloudy
Wind : 2.8 km/h
Humidity : 75%
25°C
  • Friday Tomorrow 23 °C
  • Saturday   23 °C
Weather Layer by www.BlogoVoyage.fr