কুমিল্লার কিশোরীকে এ কেমন বর্বর নির্যাতন?


কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● ঢাকার টিকাতলী এলাকায় নাজমুল ইসলাম অপু নামের এক ব্যবসায়ীর বাসায় সীমা আক্তার (১১) নামের এক গৃহপরিচারিকাকে অমানবিক নির্যাতন করে গৃহপরিচারিকার নিজ বাড়ি কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুড়ি এলাকায় পাঠানো হয়েছে।

নির্যাতিত সীমা আক্তার নগরীর ৩নং ওয়ার্ড উত্তর কালিয়াজুরী এলাকার রিকসা চালক নুরু ইসলামের মেয়ে। গৃহকর্তা নাজমুল ইসলাম অপু একই এলাকার মৃত মফিজুল ইসলামের ছেলে। তবে অপু একজন ব্যবসায়ী। আবার নিজেকে সাংবাদিক বলেও পরিচয় দেন।

জানা যায়, কুমিল্লা থেকে ১১ মাস আগে বাচ্ছা দেখাশুনার জন্য অসহায় নুরু ইসলামের মেয়ে কিশোরী সীমা আক্তারকে ঢাকা টিকাতলি কলেজ এর পাশে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান ব্যবসায়ী অপু।

সীমা আক্তারের বাবা নুরু ইসলাম জানান, ঢাকায় আমার মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার পর ১১ মাসে মাত্র একবার বাড়িতে এসেছে কোরবানি ঈদে। তার পর আর তাকে বাড়ি আসতে দেয়নি গৃহকর্তা নাজমুল ইসলাম অপু ।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) গৃহকর্তা নাজমুল ইসলাম অপু আমাকে ফোন করে জানায়, তোমার মেয়ে সীমা আক্তারের স্বাস্থ্য ভাল না। পেটের সমস্যার ভুগছে, এসে বাড়িতে নিয়ে যাও। এ কথা শুনে আমি ঢাকায় গিয়ে ওই বাসায় মেয়েকে না দেখতে পেয়ে তাদের জিগেস করি, আমার মেয়ে কোথায়। পরে আমার মেয়ে সীমাকে বাথরুমের তালা খুলে তারা বের করে আনে।

আমি সীমাকে বাথরুমে অচেতন অবস্থায় দেখতে পাই। আমি তখন অপু সাহেবকে বলি সীমার এই অবস্থা আমাকে আগে জানাইতে পারতেন। আমার মেয়ে আপনার এখানে পশ্রাব-পায়খানা করে তা আমাকে বলতেন আমি আমার মেয়েকে এসে বাড়ি নিয়ে যেতাম।

তিনি তখন আমাকে বলে এখন কুমিল্লা নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা কর, তখন আমি আর কোন উপায় না খুজে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসি মেয়েকে। বাড়িতে আসার সাথে সাথে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে আমাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর দেখতে পাই আমার মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন, পিঠে, মাথায়, হাতে, বুকে পায়ে পুরাতন এবং নতুন আঘাতের চিহ্ন।

ঢাকা অপু সাহেবের বাসা থেকে আনার পর ২দিনেও তার জ্ঞান ফিরেনি। আমার মেয়ে সীমা মুখে খিচুনী দিয়ে থাকে। হাসপাতালের সেবিকাদের সহযোগীতায় মুখের খিচুনী খোলা হয়। তার গায়ের প্রতিটি আঘাত প্রমান করে কি নির্যাতনই না করেছিল তারা স্বামী -স্ত্রী মিলে আমার মেয়েকে।

দুইদিন পর আমার মেয়ে চোখ খুললেও খবর নেননি অপু সাহেব। তিনি যখন জানতে পারছে, আমি থানায় মামলা করবো তখন আমাকে রবিবার দুপর বেলায় ফোন করে বলে বিকাশে ৩ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। টাকা তুলে মেয়েকে চিকিৎসা করাও। আমি ঢাকা থেকে আসার সময় হাতে একটি টাকাও তুলে দেয়নি অপু সাহেব।

দুইদিন আমার মেয়ে সীমা কি অবস্থায় আছে তারও কোন খোঁজখবর নেয়নি তিনি। আমি আমার মেয়ে সীমার কাছ থেকে জানতে পারি, অপু সাহেবের বাসায় তাকে বাচ্চাদের দেখাশোনা করতে বলে নিয়ে গিয়ে বাসার সকল কাজ করাতেন তারা এবং তাদের পা টিপে দিতে হতো, না পারলে সীমাকে মারধর করতো।

এদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ও কিশোর সার্জারী বিভাগের সহকারী রেজিস্টার ডা: মোঃ সাজ্জাদ হোসেন জানান, সীমার শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। আমরা তার চিকিৎসা দিচ্ছি, আগের চাইতে এখন সীমা আক্তার এখন ভালো আছে।

এই বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবু সালাম মিয়া জানান, আমাদের কাছে এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। যদি অভিযোগ করে ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করবো।


From comillarbarta.com

Source link

     More News Of This Category