এবার পেছাল বিপিএল প্লেয়ার ড্রাফটের দিন


কুমিল্লার বার্তা ডেস্ক ● বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এর এবারের আসরের প্লেয়ার ড্রাফটের দিন পেছাল কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৫ অক্টোবরের পরিবর্তে প্লেয়ার ড্রাফট করা হবে আগামী ২৮ অক্টোবর।

মূলত আসন্ন জিম্বাবুয়ে হোম সিরিজের জন্যই ড্রাফটে কিছু পরিবর্তন আনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।

বৃহস্পতিবার বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, “হ্যা, প্লেয়ার ড্রাফটের তারিখ পরিবর্তন করতে হয়েছে কারণ আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজ নিয়ে প্রায় আমরা সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ব।”

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে এ মাসের ২১ অক্টোবর। এছাড়া ২৪ ও ২৬ অক্টোবর বাকি দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মল্লিক বলেন, “২৪ ও ২৬ অক্টোবরের ম্যাচ দুটি আমরা চট্টগ্রামে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই ২৫ অক্টোবর ঢাকায় প্লেয়ার ড্রাফটের আয়োজন করা কঠিন।” তবে প্লেয়ার ড্রাফটের আগে আইকনসহ পুরোনো খেলোয়াড় ধরে রাখতে তালিকা জমা দেওয়ার কাজ ইতিমধ্যেই সেড়ে ফেলেছে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো।

এছাড়া দুজন করে বিদেশি ক্রিকেটারকে দলে রাখা যাবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল বিপিএল কর্তৃপক্ষ। বিদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে চুক্তি করার পর বিপিএল কর্তৃপক্ষের কাছে সেই নামও জমা দিতে বলা হয়েছিল ফ্রাঞ্চাইজিগুলোকে। তার সুত্র ধরে ইতিমধ্যে ইংলিশ ক্রিকেটার অ্যালেক্স হেলস ও এবি ডিভিলিয়ার্সকে দলে টেনেছে ফেলেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্স।

অন্যদিকে গত আসরের ফাইনালিস্ট ঢাকা ডায়নামাইটসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার আন্দ্রে রাসেল। আগের খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে সুনিল নারিন, কাইরন পোলার্ড এবং রভম্যান পাওয়েলকে রেখে দিয়েছে ফ্যাঞ্চাইজটি।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানের সাথে ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার লিয়াম ডসন এবং শ্রীলঙ্কান অলরাউন্ডার অ্যাশেলা গুনারত্ন এবং খুলনা টাইটান্স এর সাথে ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান ডেভিড মালান এবং পেস বোলিং অলরাউন্ডার লুইস গ্রেগরির জোট বাধার খবর পাওয়া গেছে।

আইকন ক্রিকেটার হিসেবে সাকিবকে দলে ভিড়িয়েছে ঢাকা। এছাড়া খুলনার হয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, রাজশাহীর হয়ে মুস্তাফিজ, কুমিল্লার হয়ে তামিম ইকবাল, সিলেটের হয়ে লিটন দাস এবং রংপুরের আইকন ক্রিকেটার হয়ে খেলবেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

উল্লেখ্য তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পর দুটি টেস্ট খেলবে সফরকারী জিম্বাবুয়ে। আগামী ৩ নভেম্বর শুরু হবে ম্যাচটি।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি। ডিসেম্বরের শেষে নাকি জানুয়ারিতে সেটা আরও ক’দিন গেলেই হয়তো জানা যাবে। নির্বাচনের দিনক্ষণের উপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএল আয়োজন।

এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়টি মাথায় রেখেই চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেটের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসরের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছিল বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। নির্বাচন যদি ডিসেম্বরে না হয়ে জানুয়ারিতে গড়ায় বিপিএল আয়োজন সংশয়ের মধ্যে পড়ে যাবে।

জানুয়ারিতে সংসদ নির্বাচন হয় তাহলে কি হবে? নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সিরিজে অংশ নিতে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল দেশ ছাড়বে। যেহেতু বিপিএল আয়োজনে নুন্যতম ৪৩ দিন প্রয়োজন সেহেতু জানুয়ারির শেষে টুর্নামেন্ট আয়োজন করলেও শেষ হতে প্রায় মার্চ মাসে ঠেকবে। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডে সিরিজ থাকায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন না।

আর বিপিএলের মতো আসরে মাশরাফি, মুশফিকরা থাকবেন না সেটা কী করে হয়? এসব কারণেই এবার বিপিএল মাঠে গড়ানোর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।

এদিকে মার্চে কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ শেষ করে দেশে ফিরে এপ্রিলে আয়ারল্যান্ড সিরিজের জন্য দেশ ছাড়বে টাইগার শিবির। সেই সিরিজ চলবে মে পর্যন্ত। আইরিশ মিশন শেষে টাইগাররা বিশ্বকাপে অংশ নিতে চলে যাবে ইংল্যান্ডে।

বিশ্বকাপের পরের চার মাস বর্ষা মৌসুম। কাজেই আগামী বছরের অক্টোবরের আগে বিপিএল মাঠে গড়ানোর সুযোগ নেই। সংকটের শেষ এখানেই নয়। সম্প্রচার নিয়েও আছে ঝক্কি। সব মিলিয়ে ভাবনায় পড়েছে ক্রিকেট বোর্ড।

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য ও টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, কঠিন তো একটু হবেই। আমরা একটা টাইম বলেছি। ফ্রাঞ্ছাইজিরাও হয়তো সেই স্লটটুকুতে প্লেয়ারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। একটা অসুবিধা হবে। কিন্তু ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট তো আমাদের মেনে নিতে হবে। নিয়েই আবার আমাদের বিপিএলটাকে অ্যাডজাস্ট করতে হবে।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজও এগিয়ে আনা হয়েছে এ মাসে। সেটা না করে অক্টোবরেই বিপিএল আয়োজন করতে পারতো বোর্ড। এখন যে পরিকল্পনা তাতে, আগে নির্বাচন, পরে জাতীয় দলের খেলা। মাঝে নেই খুব একটা সময়। ফলে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তাহলে কী অন্য কোনও পরিকল্পনায় যাবে বিসিবি?

জালাল ইউনুসের বক্তব্য, কোনও প্লান ‘বি’ আমাদের নেই। আমরা আগের সূচিটা ধরেই এগুচ্ছি। আমরা সবাই ধরে নিয়েছিলাম যদি ডিসেম্বরের কোনও একটা সময়ে নির্বাচন হয় তাহলে জানুয়ারিতে সেফলি আমরা বিপিএল শুরু করতে পারি। এখন পর্যন্ত আমরা জানি যে, ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। এরপর ৪ এবং ৫ জানুয়ারির যেকোনও একটা দিনে আমরা চাচ্ছি বিপিএল শুরু করতে।


From comillarbarta.com

Source link

     More News Of This Category