জীবন অঙ্কের মূলমন্ত্র


কি কি নেই আমার জীবনে? এই তালিকা যেন অনেক বড় আমাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে। না পাওয়ার তালিকা যত বড়, হতাশা তত বেশি। পরিণত বয়সে হয়তো সেটা হতাশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু কিশোর বা যুবক বয়সে না পাওয়ার হিসাব মিলাতে গেলে আগামী দিনগুলো নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে পড়বে। একটি দামি মোবাইল, নোটবুক বা ল্যাপটপের জন্য উতলা হতে দেখা যায় বহু শিক্ষার্থীকে। কিন্তু এসবের পেছনে যে অযথা সময় ব্যয় হয়ে যায় তার মূল্য সে কখনোই বুঝতে পারে না। পরিণত বয়সের অধিকাংশ মানুষকে জীবন নিয়ে আফসোস করতে দেখা যায়। কি পেলাম আর কি পেলাম না সেই হিসাব যেন নিত্যদিনের রোজ নামচা। আর সে হিসাব মিলাতে গিয়ে নিজের ব্যর্থতার জন্য অন্যদেরকেই দোষী মনে হতে থাকে। বাবা যদি তখন এই টাকাটা দিতেন তাহলে আজ ব্যবসা করে অনেক ধনী হতে পারতাম। মামাদের এত অর্থ সম্পত্তি থাকা সত্ত্বেও আমাদের দিকে সুদৃষ্টি দেয়নি। এসব অভিযোগ অনেকের মুখেই শোনা যায়। আসলে আমরা অন্যের অর্জিত সম্পত্তি বা সাফল্যকে নিজের বলে কল্পনা করতে ভালোবাসি।

বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা বা যেকোনো উছিলায় সফল মানুষের সহায়তা কামনা করতে থাকি। সহায়তা না পেলে নিজের ব্যর্থতার জন্য অন্যকে দায়ী ভাবাটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। এরূপ চিন্তা জীবনে স্বাবলম্বী হওয়া বা সাফল্য লাভ করার জন্য সবচেয়ে বড় বাধা। অধিকাংশ মানুষ ক্ষুদ্র এই চিন্তার বৃত্তের মাঝে জীবন পার করে। কিন্তু তারা যদি সফল বা ধনী মানুষটির জীবনযাপন গভীরভাবে খেয়াল করতেন তাহলে সফলতার সূত্র যেমন খুঁজে পেতেন তেমনি হতাশা থেকেও মুক্তি পেতেন।

আমরা অনেকেই জীবনে একটি সুসংবাদ বা সুসময়ের জন্য অপেক্ষা করি। ঠিক যেন লটারি পাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটবে কোনো এক সুন্দর সকালে। আবার কোনো একটি প্রাপ্তির পর অনেকে সেটাকেই বড় করে দেখেন পরবর্তী সময়ে আর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন না। ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই ভালো রেজাল্ট করার পরপরই আনন্দে আত্মহারা হতে দেখা যায়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো রেজাল্টের জন্য ছাত্রছাত্রীদের যতটা পড়াশোনায় যতটা মনোযোগী থাকে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে ততটা দেখা যায় না। কিন্তু একটি ফাইনাল পরীক্ষার মতো করে চাকরির জন্য পড়াশোনা করলে ফলাফল ভিন্ন হতে বাধ্য। দুর্নীতি করে ভালো ফলাফল বা চাকরিপ্রাপ্তির প্রত্যাশা পরবর্তী সময়ে শুধু চাকরি জীবনে নয় ব্যক্তিকেও দুর্নীতিতে প্রভাবিত করে। দুর্নীতিপ্রবণতার কুপ্রভাব তার ব্যক্তিগত মানসিক প্রশান্তিই বিনষ্ট করে না, তাকে এক ভিন্ন জগতে ঠেলে দেয়। জীবনে অনেক প্রাপ্তি থাকা সত্ত্বেও চাহিদা যেন কখনোই শেষ হতে চায় না। এ কারণে জীবনে সফলতার মাপকাঠি নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তির জীবনকে আদর্শ হিসাবে মানা যায় তাও বুঝতে হবে। তা না হলে মরীচিকার পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবন শেষ হলেও জীবনের হিসাব মিলবে না।

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী বিল গেটস কোনো এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, জীবনে তিনি যত আনন্দ লাভ করেছেন তার মধ্যে সর্বাধিক আনন্দ পেয়েছেন নিজের ছেলেকে হোম ওয়ার্ক তৈরিতে সাহায্য করে। এ কারণে জীবনে পাওয়া না পাওয়ার হিসাব মিলাতে গিয়ে হাতের মুঠোয় যেসব আনন্দ লাভের সুযোগ রয়েছে তা থেকেও যেন নিজেকে বঞ্চিত না করি, সেটাও খেয়াল রাখা দরকার। দরিদ্র আত্মীয় বা অসহায় মানুষের জন্য ছোট ছোট সাহায্য করার মধ্যেও লুকিয়ে আছে আত্মতৃপ্তির অপার আনন্দ। তবে ধন সম্পদ, যশ, খ্যাতি যাই হোক জীবনে সফলতা লাভ ও আত্মতৃপ্তির জন্য প্রচেষ্টা দরকার। প্রতিনিয়ত পরিশ্রম ও সুখী হওয়ার কৌশল আয়ত্ত করার মধ্যেই রয়েছে সাফল্য আর জীবনের পাওয়া না পাওয়ার মূলমন্ত্র। সেই মন্ত্র খুঁজে পেলেই মিলবে জীবন অঙ্কের সব সমাধান।




From dhakatimes24.com

Source link

     More News Of This Category