ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের অস্বীকার


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরীক্ষা শুরুর প্রায় ৪৫ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। তবে তা অস্বীকার করেছে ঢাবি প্রশাসন।

শুক্রবার সকাল ৯টা ১৭ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হাতে লেখা ১০০টি প্রশ্ন সম্বলিত একটি প্রশ্নপত্র পান সাংবাদিকরা। পরে সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সহকারী প্রক্টর’ সোহেল রানাকে বিষয়টি জানানো হয়। পরীক্ষা শেষে সাংবাদিকেরা ফেসবুকে পাওয়া প্রশ্নপত্রের সাথে মূল প্রশ্ন মিলিয়ে দেখেন এবং ১০০টির মধ্যে ৭২টি প্রশ্নের হুবহু মিল পান।

৭২টি প্রশ্নের মধ্যে বাংলা বিভাগে ১৯টি, ইংরেজি বিভাগে ১৭টি, সাধারণ জ্ঞান বিভাগে ৩৬টি প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ বিভাগে ১৬টি ও আন্তর্জাতিক বিভাগে ২০টি প্রশ্নের মিল রয়েছে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী তার কার্যালয়ে আসেন। তখন সাংবাদিকরা তার কাছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরশীল উৎস থেকে প্রশ্নফাঁস হয়েছে এটা নিশ্চিত হতে পারিনি। যে অভিযোগ উঠেছে তা প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, ভর্তি পরীক্ষা জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বারবার বিষয়টিকে ‘ডিজিটাল জালিয়াতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন ‘প্রশ্নফাঁস’ আর ডিজিটাল জালিয়াতি এক নয়। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে যাতে কেউ পরীক্ষায় জালিয়াতি করতে না পারে সেজন্য প্রত্যেকটি পরীক্ষাকেন্দ্রের গেইটে প্রশাসন মেটাল ডিটেকটর স্থাপন করেছে। তারপরও জালিয়াতি হয়েছে। এটা কি আপনাদের ব্যর্থতা না? প্রশ্ন করেন এক প্রতিবেদক। অধ্যাপক গোলাম রাব্বানি এই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দেননি।

তদন্তে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি প্রমাণিত হলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মনীতি অনুসারে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কয়েকজন সাংবাদিক আমাদের একটি হাতে লেখা প্রশ্ন এনে দেখিয়েছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো।’

এদিকে অনুষদের ডিন ও এই পরীক্ষার সমন্বয়ক অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলছেন, এই ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর তাকে কিছুই জানাননি।

শুক্রবার ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ৫০টি ও ক্যাম্পাসের বাইরে ৩১টি স্কুল-কলেজসহ মোট ৮১টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর এক হাজার ৬১৫টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারী শিক্ষার্থী ছিল ৯৫ হাজার ৩৪১ জন।

(ঢাকাটাইমস/১২অক্টোবর/এনএইচএস/জেবি)




From dhakatimes24.com

Source link

     More News Of This Category