দৌলতদিয়ায় নদীতেই ফেলা হচ্ছে ড্রেজিংকৃত পলি


দৌলতদিয়ায় নদীতেই ফেলা হচ্ছে ড্রেজিংকৃত পলি

এম,মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী

2018-10-12

বর্ষা মওসুম শেষ হতে না হতেই পদ্মা-যমুনা নদীতে দ্রুত পানি কমতে শুরু করেছে। এতে দেশের ব্যাস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের চ্যানেলে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। সরু চ্যানেলে ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে ফেরি। ফেরি চলাচল ব্যহত হওয়ায় প্রতিনিয়তই ঘাটে আটকে থাকছে শতশত গাড়ি।

নদীতে সরু ওয়ান ওয়ে চ্যানেলে ফেরিতে ফেরিতে সংঘর্ষের পাশাপাশি অনেক সময় ফেরিগুলোকে চ্যানেলে প্রবেশ করতে নদীতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অপরদিকে তীব্র স্রোতে বয়ে আসা পলিতে ভরাট হয়ে যাচ্ছে নৌ-চ্যানেল ও ফেরিঘাট এলাকার বেসিন। নাব্যতা সংকট কাটাতে বিআইডব্লিউটিএ ৭টি ড্রেজার দিয়ে পলি খনন কাজ শুরু করেছে।

তবে দৌলতদিয়ায় ড্রেজিংকৃত পলি নদীতেই সামান্য উজানে ফেলা হচ্ছে। যা দ্রুত  স্রোতের  টানে পুণরায় আগের জায়গায়ই ফিরে আসছে। এতে সরু নৌ-চ্যানেল সহজেই ভরাট হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ফেরি মালিক ও স্থানীয়রা।

সরেজমিনে এ অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। সোমবার বিকালে দৌলতদিয়া ঘাটের চ্যানেলে রোরো ফেরি শাহজালালের সাথে সংঘর্ষ হয় একটি ইউটিলিটি ফেরির। এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও মাঝে মধ্যেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে পদ্মা-যমুনা নদীতে অস্বাভাবিক গতিতে পানি কমছে। সেই সাথে তীব্র স্রোতে বয়ে আসা পলি ঘাট এলাকার ফেরি চলাচলের চ্যানেল ও বেসিনে জমে নাব্য সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিআইডব্লিটএর ড্রেজিং বিভাগ ৭টি ড্রেজার দিয়ে পলি অপসারণের কাজ শুরু করেছে। ড্রেজারগুলোর মধ্যে ৪টি দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় ও ৩টি পাটুরিয়ায় কাজ করছে।

দৌলতদিয়ার একাধিক ফেরি মাস্টার জানান, ড্রেজিং বিভাগকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে দিনরাত পলি অপসারণ করতে হবে। তা না হলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই এখানকার পরিস্থিতি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটের মতো হতে পারে। প্রতিদিনই পানি কমছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে স্রোতের সাথে পলি এসে জমছে নৌ-চ্যানেল ও বেসিনে।

স্বাভাবিকভাবে রোরো ফেরি চলাচলের জন্য ৯-১০ ফুট পানির গভীরতা দরকার। সেখানে দৌলতদিয়া এলাকায় সর্বোচ্চ  ৮ ফুট এবং কোথাও কোথাও আরো কম পানি রয়েছে। ফলে দৌলতদিয়ার প্রায় আড়াইশ ফুট দৈর্ঘ্যের চ্যানেলটি অত্যন্ত সরু ও অগভীর হয়ে গেছে।

চ্যানেলে একটি ফেরি ঢুকলে বিপরীত দিক থেকে আর কোন ফেরি ঢুকতে পারে না। তাছাড়া সরু চ্যানেল ও ড্রেজিংয়ের পাইপের সাথে প্রায়ই ফেরির পাশে ও তলদেশে ধাক্কা লাগছে। এতে ফেরির তলদেশের যন্ত্রাংশের ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটির ড্রেজিং বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, ‘এ বছর প্রাথমিকভাবে ২০ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে ৭টি ড্রেজার দিয়ে তারা কাজ শুরু করেছেন। দৌলতদিয়া এলাকায় নাব্যতা সংকট বেশী এবং নদীতে এখও স্রোত বেশি থাকায় দ্রুত পলি আসছে। নৌ-চ্যানেল সচল রাখতে দিনরাত ৪টি ড্রেজার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে পাটুরিয়ায় অপেক্ষাকৃত কিছুটা সমস্যা কম।

আর নদীতেই খননকৃত পলি ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, যেহেতু দৌলতদিয়ায় নাব্যতা সংকট বেশি তাই দ্রুত কাজ করতে হয়। তাই উজানে তারা বাধ্য হয়েই পলি ফেলছেন। কিছুদিন পলি ফেলানোর পর চর সৃষ্টি হলে আর খননকৃত পলি ভেসে আসবে না। ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা সর্বদা তৎপর আছেন।

জানতে চাইলে বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম সরু চ্যানেলের কারণে ফেরি চালাতে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হচ্ছে স্বীকার করে জানান, নৌরুটে পর্যাপ্ত ১৮টি ফেরি আছে। যানবাহনগুলোও নির্বিঘ্নে পারাপার হতে পারছে।  নাব্য সংকটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ঘাট এলাকায় প্রতিদিনই কয়েকশ' যানবাহন নদী পারের অপেক্ষায় আটকে থাকছে।

ঢাকাটাইমস/১২অক্টোবর/প্রতিনিধি/ওআর

© dhakatimes24.com

(function(i,s,o,g,r,a,m){i[‘GoogleAnalyticsObject’]=r;i[r]=i[r]||function(){
(i[r].q=i[r].q||[]).push(arguments)},i[r].l=1*new Date();a=s.createElement(o),
m=s.getElementsByTagName(o)[0];a.async=1;a.src=g;m.parentNode.insertBefore(a,m)
})(window,document,’script’,’https://www.google-analytics.com/analytics.js’,’ga’);

ga(‘create’, ‘UA-38749562-1’, ‘auto’);
ga(‘send’, ‘pageview’);


From Dhakatimes24.com

Source link

     More News Of This Category